মেট্রোরেলের কারণে যেমন যানজট বেড়েছে, বেড়েছে পথচারী ভোগান্তি

ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কে নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেল। উত্তরা-মিরপুর ১০-আগারগাঁও-ফার্মগেট-শাহবাগ-বাংলা একাডেমি-মতিঝিল অংশে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল (ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি-৬)। সড়কটিতে পিলার দিয়ে বানানো হবে উড়ালপথ। উড়ালপথে বসানো লাইনে চলবে মেট্রোরেল। পিলারগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কের মাঝখানে। ৭২ ফুট প্রস্থ সড়কটির অর্ধেকই ব্যবহার হচ্ছে নির্মাণকাজে। বাকি অর্ধেক দিয়ে চলছে যানবাহন, যার পুরোটাজুড়েই শুধু বিশৃঙ্খলা অব্যবস্থাপনা।

মেট্রোরেলের কাজে ফার্মগেট-মতিঝিল সড়কের অনেকগুলো স্থানে ফুটপাত এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও পথচারী চলাচলের জন্য নিরাপদ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কেই চলাচল করছেন পথচারীরা। সোনারগাঁও হোটেলের সামনের জেব্রা ক্রসিং বন্ধ করে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। পথচারী পারাপারে রাখা হয়নি বিকল্প ব্যবস্থা। নিজ দায়িত্বে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কটি পার হচ্ছে মানুষ। একই অবস্থা বাংলামোটর, পরীবাগ, শাহবাগ, পল্টনসহ অন্যান্য ব্যস্ততম পয়েন্টেও।

কারওয়ান বাজারের প্রজাপতির গুহা নামে পরিচিত আন্ডারপাসের মুখটি ছিল পার্শ্বরাস্তা ও মূল সড়কের মধ্যের ফুটপাতে। মেট্রোরেলের কারণে যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে আসায় ফুটপাত ভেঙে পার্শ্বরাস্তাটি মূল রাস্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে আন্ডারপাসটি পড়ে গেছে ব্যস্ত রাস্তার ঠিক মধ্যিখানে। ফলে আন্ডারপাস থেকে বেরিয়ে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে মানুষ। গত সপ্তাহেও আন্ডারপাস থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় একজনের প্রাণহানি হয়েছে।

নির্মাণাধীন উত্তরা-ফার্মগেট-মতিঝিল মেট্রোরেলের কারণে সড়কটিতে একদিকে যেমন যানজট বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পথচারী ভোগান্তিও। এজন্য দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে তারা বলছেন, মেট্রোরেলের মতো এত প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রকল্পে এ ধরনের দুর্বলতাগুলো একটু সচেতন থাকলেই এড়ানো যেত। এজন্য বাড়তি টাকা বা সময়ের প্রয়োজন হতো না।

বিশৃঙ্খলা ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। ফার্মগেট-শাহবাগ সড়কের কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, পরীবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জেব্রা ক্রসিং। পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এসব পয়েন্টে এখন ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে মানুষ।

প্রেস ক্লাবের সামনে ফুটওভার ব্রিজটিও তুলে ফেলা হয়েছে। সেখানে জেব্রা ক্রসিং দেয়ায় পথচারীরা এখন কোনোমতে পারাপার হতে পারছেন। প্রকল্পের নিজস্ব কর্মী দিয়েও সেখানে পথচারী পারাপার করতে দেখা গেছে। কোনোরকমে পারাপার হলেও ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। প্রেসক্লাবের উল্টোপাশের ফুটপাতটির পুরোটাই ভাসমান হকার ও দোকানের দখলে।

পুরানা পল্টন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও বেশ খারাপ। অবৈধ দখল, পার্কিং আর ফুটপাতের হকারদের দৌরাত্ম্যের কারণে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয় পথচারীদের।

advertisement ABA

উত্তর

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম লিখুন