গেইলের শুরুর ম্যাচে নায়ক ইমরুল

Quickpost গেইলের শুরুর ম্যাচে নায়ক ইমরুল
আগেই শেষ চার নিশ্চিত করা দুই দলের ম্যাচে মূল কৌতূহল ছিল ক্রিস গেইলকে ঘিরে। বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান থেমে গেলেন কিছুটা ঝলক দেখিয়েই। কিন্তু ইমরুল কায়েসের থামাথামি নেই! বিপিএলের শুরু থেকেই ইমরুলের ব্যাটে যে রানের জোয়ার, সেই স্রোতে এবার ভেসে গেল রাজশাহী।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহী রয়্যালসকে ১৬৬ রানে আটকে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়ে আবার শীর্ষে উঠে গেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৯ বল বাকি রেখে । রাজশাহী নেমে গেছে দুইয়ে।

এবারের আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে ১০ বলে ২৩ রানের ক্যামিও খেলেছেন গেইল। ইমরুল ঝড় তুলেছেন, রাজশাহীকে তছনছ করে ফিরেছেন দলকে জিতিয়ে। ৫ ছক্কায় করেছেন ৪১ বলে অপরাজিত ৬৭।

ওপেনিংয়ে লেন্ডল সিমন্সের ব্যাট থেকেও আসে কার্যকর ফিফটি। রাজশাহীকে পাত্তাই দেয়নি চট্টগ্রাম।

শেষ পর্যন্ত ইমরুল আলো কেড়ে নিলেও ম্যাচের প্রথম ভাগে দারুণ বোলিং করেন রুবেল হোসেন ও জিয়াউর রহমান। টুর্নামেন্ট জুড়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রুবেল নেন ২০ রানে ৩ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে আগের ৮৯ ম্যাচে কখনোই ম্যাচে ২ উইকেটের বেশি পাননি যিনি, সেই জিয়া ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট।

রাজশাহীকে ভালো ভিত গড়ে দিয়েছিল লিটন দাসের ফিফটি। তবে জীবন পেয়ে এগিয়ে গিয়েও তিনি যেমন পারেননি ইনিংস আরও বড় করতে, দলের অন্যরাও পারেননি বড় অবদান রাখতে।

টস জিতে বোলিংয়ে নামা চট্টগ্রামকে ভালো শুরু এনে দেন রুবেল। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দেন আফিফ হোসেনকে। বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে স্টাম্পে টেনে আনেন আফিফ।

লিটন সুযোগ দিয়েছিলেন ১৪ রানে। রুবেলের বলে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি কেসরিক উইলিয়ামস।

দ্বিতীয় উইকেটে লিটন ও ইরফান শুক্কুর ৩৭ রানের জুটি গড়েন বটে। তবে দুজনের কেউই খুব দ্রুততায় রান তুলতে পারেননি। ১৭ বলে ১৮ করে শুক্কুরের রান আউটে ভাঙে এই জুটি।

দলের রান রেট খুব ভালো নয় দেখেই হয়তো এরপর হাত খোলেন লিটন। শোয়েব মালিকের সঙ্গে ৪১ রানের জুটিতে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৩২। উইলিয়ামসের বলে বাউন্ডারিতে ৪০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন লিটন।

লিটনের আউট যথারীতি ছিল হতাশাজনক এক শটে। জুটি ভাঙতে জিয়ার হাতে বল তুলে দেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রথম বলেই জিয়াকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কেবল আকাশেই তোলেন লিটন, ক্যাচ নেন কিপার নুরুল হাসান সোহান।

এরপর আন্দ্রে রাসেল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিধ্বংসী ইনিংসের। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান করে ফিরেন তিনি রুবেলের বলে। ওই ওভারে রবি বোপারাকেও ফেরান রুবেল।

এক প্রান্তে টিকে থাকা শোয়েব মালিক (২৪ বলে ২৮) ও অলক কাপালিকে ফেরান জিয়া। শেষ দিকে তাই রানের গতি ছিল না প্রত্যাশিত। শেষ ওভারে পুষিয়ে দেন ফরহাদ রেজা।

ইনিংস জুড়ে দারুণ অধিনায়কত্ব করা মাহমুদউল্লাহ শেষ ওভারে নেন ঝুঁকি। দিতে হয় খেসারত। উইলিয়ামসের এক ওভার বাকি থাকলেও বোলিং দেন মুক্তার আলিকে। ফরহাদ মারেন দুটি ছক্কা। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ২১ রান করেন কেবল ৮ বল খেলেই।

রাজশাহীর পুঁজি খারাপ ছিল না। কিন্তু তাদের লড়াইয়ের সুযোগই দেননি সিমন্স-ইমরুল।

চট্টগ্রামের রান তাড়া শুরু হয় ইনিংসের প্রথম বলে লেন্ডন সিমন্সের বাউন্ডারিতে। আন্দ্রে রাসেলের ওই ওভারে সিমন্সের ব্যাট থেকে আসে একটি ছক্কাও।

প্রথম ২ ওভারে ৩ বল খেলে গেইলের রান ছিল ১। তৃতীয় ওভারে তিনি পেয়ে বসেন আফিফ হোসেনকে। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ওভার থেকে নেন ২২ রান।

তবে এক ওভারেই শেষ গেইলের তাণ্ডব। কামরুল ইসলাম রাব্বি আক্রমণে এসে প্রথম বলেই দলকে এনে দেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট। রাউন্ড দা উইকেটে করা বাড়তি লাফানো বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন গেইল।

রাজশাহীর সেই স্বস্তি দীর্ঘায়িত হয়নি খুব একটা। ইমরুল উইকেটে গিয়েই খেলতে থাকেন দারুণ সব শট। সিমন্স বড় শট খেলেছেন সুযোগ পেলেই। দুজনের জুটি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেয় অনেকটা।

৪৯ বলে ৭৭ রানের জুটি ভাঙে সিমন্সের রান আউটে। এবারের আসরে তৃতীয় ফিফটির পর সিমন্স ফিরে যান ৪ ছক্কায় ৪৩ বলে ৫১ করে।

চট্টগ্রাম এরপর হারায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকেও। চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক ১০ রানে বোল্ড হন ফরহাদ রেজার বল বাজে ভাবে ক্রস ব্যাটে খেলে। কিন্তু ইমরুল ছিলেন, তাই দুর্ভাবনায় পড়তে হয়নি চট্টগ্রামকে।

মাহমুদউল্লাহর ফেরার পরই ফরহাদকে বিশাল এক ছক্কায় চাপও উড়িয়ে দেন ইমরুল। পরে আরেকটি বিশাল ছয় মারেন পাকিস্তানী মোহাম্মদ ইরফানের বলেও। কমরুল রাব্বির বলে বাউন্ডারিতে খেলা শেষও করেন ইমরুলই।

এবারের আসরে এই নিয়ে চারটি ফিফটি করলেন ইমরুল। ৩৮৬ রান নিয়ে তিনি এখন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার, গড় ৬৪.৪৪, স্ট্রাইক রেট ১৩৪.৪৯!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৬৬/৮ (লিটন ৫৬, আফিফ ৯, শুক্কুর ১৮, মালিক ২৮, রাসেল ২০, বোপারা ৪, অলক ১, ফরহাদ ২১, কামরুল রাব্বি ৩;  নাসুম ৪-০-৩৩-০, রুবেল ৪-০-২০-৩, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১৫-০, উইলিয়ামস ৩-০-৩৮-০, মুক্তার ৪-০-৪১-০, জিয়া ৩-০-১৮-৩)।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.৩ ওভারে ১৭০/৩ (সিমন্স ৫১, গেইল ২৩, ইমরুল ৬৭*, মাহমুদউল্লাহ ১০, ওয়ালটন ১৪*; রাসেল ৩-০-৩০-০, ইরফান ৪-১-৩০-০, আফিফ ১-০-২২-০, কামরুল রাব্বি ৩.৩-০-২০-১, তাইজুল ১-০-১০-০, বোপারা ৩-০-২৭-০, অলক ১-০-১৩-০, ফরহাদ ২-০-১৭-১)।

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইমরুল কায়েস

advertisement ABA

উত্তর

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম লিখুন